দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তামাক চাষিরা এবার চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। চাষিদের অভিযোগ, তামাক কোম্পানিগুলো সংগ্রহের সময় নানা অজুহাত ও সেন্টিগ্রেডের শর্ত দেখিয়ে কম দামে তামাক কিনছে। এতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাজারে কম মূল্যে তামাক বিক্রি করছেন।
কৃষকদের দাবি, সরকার তামাকজাত পণ্যে ভ্যাট ও কর বাড়ানোর পর থেকেই কোম্পানিগুলো আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে আগাল পাতা নেওয়া হলেও গোড়া ও মাঝের পাতার ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে তা বাতিল করা হচ্ছে। ফলে পুরো ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।
এদিকে সামনে ধান কাটার মৌসুম ও নতুন ধান আবাদ শুরু হওয়ায় কৃষকদের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক জানান, তামাক বিক্রির টাকাই ছিল ধান চাষের মূল পুঁজি। কিন্তু বর্তমানে বাজারে কম দামে তামাক বিক্রি করতে গিয়ে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ ঋণ করে চাষাবাদ করায় এখন দেনার চাপও বাড়ছে।
অভিযোগ উঠেছে, মাঠ পর্যায়ে কিছু ফিল্ডম্যান কোম্পানিকে প্রকৃত তথ্য না দিয়ে নিজেরাই লোক লাগিয়ে কম দামে তামাক কিনছেন। পরে সেই তামাক বেশি দামে কোম্পানিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য হারাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।
তামাক চাষিদের ভাষ্য, সার, শ্রমিক, সেচ ও শুকানোর খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও বাজারে সেই অনুযায়ী দাম মিলছে না। এতে কৃষি খাতে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অনেকেই বলছেন, “এভাবে চলতে থাকলে তামাক চাষ করে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটাই দাবি— হয় সরকার তামাক চাষ বন্ধ ঘোষণা করুক, না হয় বাজারে প্রতি মণ তামাকের ন্যূনতম মূল্য ১০ হাজার টাকা নিশ্চিত করুক। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও বাজার মনিটরিং জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মতামত