ছবি : সালথা শ্রমিক লীগ নেতা ও তথাকথিত প্রেসক্লাব সভাপতি টুটু কারাগারে
প্রকাশিত : ১০ মে ২০২৬, রাত ১০:১০
আইনি পাহারায় থাকতে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে নিজেই রাতারাতি ‘প্রেস ক্লাব’ গঠন করে সভাপতি বনে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। চাঁদাবাজির মামলায় অবশেষে কারাগারে যেতে হলো ফরিদপুরের সালথা উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটুকে।
রোববার (১০ মে) ফরিদপুরের সংশ্লিষ্ট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে বাঁচতে তিনি ভিন্ন পথ বেছে নেন। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে তিনি গঠন করেন ‘সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব’। নিজেকে সেই ক্লাবের সভাপতি ঘোষণা করে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন আরও বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ১৮ সদস্যের ওই কমিটিতে অধিকাংশ সদস্যের সাংবাদিকতার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের মধ্যে কেউ যুবলীগ, কেউ ছাত্রদল, আবার কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে সদস্য বানানোর অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টুটু চৌধুরী সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালি, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়া মাটি-বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার বাণিজ্য ও থানাকেন্দ্রিক দালালির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ফরিদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর অবৈধ সম্পদ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক পেশাদার সাংবাদিককে সশরীরে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে টুটু চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার এড়াতে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন শ্রমিক লীগ নেতা চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটু। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে আড়াল করতে তিনি তড়িঘড়ি করে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে সাথে নিয়ে গঠন করেন তথাকথিত ‘সালথা উপজেলা প্রেসক্লাব’। তিনি ওই প্রেসক্লাবের সভাপতি হয়ে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
মতামত