সারাদেশ

কাপ্তাই হ্রদের মাছ বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

প্রিন্ট
কাপ্তাই হ্রদের মাছ বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১০ মে ২০২৬, বিকাল ৩:৩৬

কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও মৎস্যজীবি মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিএফডিসি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, বাংলাদেশ মৎম্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ইমাম উদ্দিন কবির প্রমুখ। এসময় জেলের পক্ষ থেকে ২০ কেজি থেকে ৪০ কেজি জিভিএফ চাল এর বরাদ্দের দাবি করেন। একই সাথে বন্ধকালীন সময়ে জেলে সুদমুক্ত ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ব্যবসায়ীদের দাবি করেন বন্ধকালীন সময় আরও কার্প মাছের পোনা অবমুক্ত করা, অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে কোর্স গার্ড নিয়োগ এবং হ্রদের মাছ রপ্তানির ব্যবস্থা করা। নৌ পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার বি এম নুরুজ্জামান বলেন,পুরো হ্রদে বন্ধকালীন সময়ে নজরদারির জন্য ৮ টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী। মানুষ মাছ শিকার বন্ধ না করলে এতো বড় হ্রদে নজরদারি সম্ভব নয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র বলেন, অতীতে কাপ্তাই হ্রদে ৯০ শতাংশ কার্পজাতীয় মাছ থাকলেও বর্তমানে তা এখন এক শতাংশে নেমে আসাকে মহাবিদপ সংকেত। এখন হ্রদে ৯০ শতাংশ ছোট মাছ পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রেগুলো পলি জমে ধংস হয়ে গেছে। হ্রদে পোনা ছাড়া হলেও প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ফিরিয়ে না আনলে ভবিষ্যতে কার্প জাতীয় মাছ হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিং জরুরি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, অভয়াশ্রমে মাছ শিকারের কারণে কার্প জাতীয় মাছ কমে যাচ্ছে। এই অভয়াশ্রম আরও বৃদ্ধি, বন্ধকালীন সময় কোস্ট গার্ড দেয়া, হ্রদের দূষণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে মোবাইল কোর্ট বাড়ানো উদ্যোগ নেয়া হবে যাতে অবৈধভাবে বন্ধকালীন সময়ে মাছ বড় হতে পারে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অতীতে কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তেমন মাছ পাওয়া যায় না। তিনি জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাছকে বড় হতে সময় দিবেন। অনুরোধ করছি-তিন মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন। সরকার ইতোমধ্যে কৃষক, ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন। আপনারাও কৃষক কার্ডের আওতায় পড়বেন। আপনারা ঋণ সুবিধা পাবেন। কৃষক কার্ডে দশটি ক্যাটাগরি রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের মাছ বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরিণ চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লেককে কখনো নোংরা করবেননা। নিজ থেকে সচেতন হলে দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। দূষণমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। লেক যাতে দুষিত না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক করতে হবে। এখানে প্রচুর পর্যটক আসেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরাও পর্যটকদের সচেতন করবেন। চিংড়ি বৃদ্ধিতে আরো পদক্ষেপ নিচ্ছি যাতে বৈদেশিক আয় বাড়ানো যায়। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছি। এটা আরও বাড়ানোর সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হবে।