সারাদেশ

কাপাসিয়া স্ত্রী-সন্তানসহ একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, পলাতক ফোরকানকে খুঁজছে পুলিশ।

প্রিন্ট
কাপাসিয়া স্ত্রী-সন্তানসহ একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, পলাতক ফোরকানকে খুঁজছে পুলিশ।

ছবি : মো: সিরাজুল ইসলাম


প্রকাশিত : ৯ মে ২০২৬, দুপুর ২:৫১

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজ মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং স্ত্রী শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ সদর এলাকার বাসিন্দা ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। পেশায় তিনি ছিলেন প্রাইভেটকার চালক। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত বিভীষিকাময়। তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল মেঝেতে। রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ পড়ে ছিল জানালার পাশে। গাজীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।” গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো কাপাসিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।