সারাদেশ

শান্তিগঞ্জে মতপ্রকাশের জেরে শিক্ষার্থী রহমতের বাড়িতে হামলাচেষ্টা: প্রতিহিংসার রাজনীতি নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র'

প্রিন্ট
শান্তিগঞ্জে মতপ্রকাশের জেরে শিক্ষার্থী রহমতের বাড়িতে হামলাচেষ্টা: প্রতিহিংসার রাজনীতি নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র'

ছবি : শান্তিগঞ্জে মতপ্রকাশের জেরে শিক্ষার্থী রহমতের বাড়িতে হামলাচেষ্টা: প্রতিহিংসার রাজনীতি নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?"


প্রকাশিত : ৮ মে ২০২৬, রাত ২:৫৬

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া সামান্য একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। অভিযোগ উঠেছে, দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মতামতকে পুঁজি করে উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে হামলা, লুটপাট এবং মব (Mob) তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বাক-স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন সুশীল সমাজ। ​ঘটনার সূত্রপাত ​জানাগেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মী মো. রহমত আলী হৃদয়ের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ওই শিক্ষার্থী তার পোস্টে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু অসঙ্গতি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই মতামতকে 'ধর্মীয় অনুভূতি' বা 'ভিন্ন মতাদর্শের পরিপন্থী' হিসেবে তকমা দিয়ে স্থানীয় একটি বিশেষ মহল জলঘোলা করতে শুরু করে। ​বাড়িতে হামলার চেষ্টা ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ ​প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গতকাল বিকেলে “তৌহিদী জনতা” নাম ব্যবহার করে জামায়াত-শিবির ও হেফাজতপন্থী একদল লোক রহমত আলী হৃদয়ের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ভীতি সৃষ্টি করে এবং বাড়িতে লুটপাটের চেষ্টা চালায়। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে স্থানীয় সাধারণ গ্রামবাসী তাৎক্ষণিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে মব সন্ত্রাসীদের রুখে দাঁড়ান এবং তাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন। ​স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ প্রতিবাদ ছিল না, বরং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে হেফাজতের নামধারী কিছু উগ্র কর্মী এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। ​আইনি হয়রানি ও মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ​একজন স্কুলপড়ুয়া কিশোরের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা এবং আইনি জটিলতা তৈরি করা নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে। সচেতন মহলের মতে: ​মত প্রকাশের স্বাধীনতা: গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু সেটির জবাব হওয়া উচিত যুক্তি দিয়ে, মামলা বা হামলা দিয়ে নয়। ​মানসিক চাপ: একজন শিক্ষার্থীর ওপর এভাবে উপর্যুপরি মামলা তার পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। ​বিচারের ন্যায্যতা: আইনের প্রয়োগ হতে হবে মানবিক ও যুক্তিসঙ্গত, যা প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া অনুচিত। ​ভুক্তভোগীর বক্তব্য ​ভুক্তভোগী রহমত আলী হৃদয় বলেন, "আমি কেবল আমার বিবেক থেকে কিছু কথা লিখেছিলাম। কিন্তু সেই অপরাধে আমার পরিবারকে কেন আতঙ্কিত করা হচ্ছে? আমাকে বারবার মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু বিচার চাই।" ​প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ​এ ঘটনায় ডুংরিয়া গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলাবাসী এবং সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন: ১. দ্রুত তদন্ত করে মব সৃষ্টির উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনা। ২. রহমত আলীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা। ​শেষ কথা: বাংলাদেশে মব জাস্টিস বা গণ-সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কোনো নাগরিকের বাড়িতে হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি অশনি সংকেত। শান্তিগঞ্জে শান্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।