সৌদি আরবে বিল্ডিং নির্মাণ করতে গিয়ে নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইউসুফের মরদেহ অবশেষে দেশে: শোকাতুর পরিবার এখন ঋণের ভারে জর্জরিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, আবদুল আউয়াল নোয়াখালী | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
নোয়াখালী: দীর্ঘ ১৫ দিনের প্রতীক্ষা আর আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো রেমিট্যান্স যোদ্ধা ইউসুফের মরদেহ গতকাল রাত ১০টায় তার নিজ বাড়ি মাহাতাবুর গ্রামে এসে পৌঁছায়। মরদেহবাহী গাড়িটি গ্রামে প্রবেশ করা মাত্রই এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহত ইউসুফের মরদেহ দেখার পর তার স্ত্রী, একমাত্র শিশু কন্যা মারজিয়া এবং স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
আর্থিক সংকট ও মরদেহের দেশে ফেরা:
জানা গেছে, ইউসুফের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল। পরবর্তীতে প্রবাসীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এলাকার বিত্তবানদের আর্থিক সহায়তায় মরদেহটি দেশে আনা সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়ায় মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।
সহায়তার বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়:
ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ।
হানিফ মিয়ার মাধ্যমে ৪২,০০০ টাকা।
বেলাল ভাই ও হারুনের পক্ষ থেকে ১,০০,০০০ টাকা।
ইউসুফের কফিল (নিয়োগকর্তা) থেকে প্রাপ্ত ২,০০০ রিয়াল।
মানিকের মাধ্যমে সংগৃহীত ৬০,০০০ টাকা।
এই বিশাল অংকের টাকা খরচ করতে গিয়ে বর্তমানে পরিবারটি বিপুল অংকের ঋণের জালে আটকে পড়েছে। তথ্য সংগ্রহে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির কেন্দ্রীয় সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ কন্টেক দার লিটন এবং তার সহযোগী মানিকসহ অত্র এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
সাহায্যের আকুতি:
আজ সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ইউসুফের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। তবে শোকের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশু মারজিয়ার ভবিষ্যৎ এবং ঋণের বোঝা। এমতাবস্থায়, পিতৃহীন শিশুটির ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করুন:
হুমায়ুন কবির লিটন
(আনিকা স্টোর ) 01857654781
আপনার সামান্যতম সহযোগিতা এই শোকাতুর পরিবারটিকে বেঁচে থাকার নতুন পথ দেখাতে পারে।
মতামত