গাজীপুরের কাপাসিয়া
উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা পর একটি মাদ্রাসার পুকুর থেকে সাজিম মিয়া (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার ভোরে উপজেলার খিরাটি এলাকার জামিয়া রাশিদিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ঘটে। মরদেহের কপালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
নিহত সাজিম মিয়া নরসিংদী সদর উপজেলার ঘোড়াদিয়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ আদায়ের পর ভোরে মাদ্রাসার পুকুরপাড়ে আম পাড়তে যায় সাজিম। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে কক্ষে ফিরে না আসায় সহপাঠী ও শিক্ষকরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরপাড়ে তার জুতা ও টুপি পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় সবার। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, আম পাড়তে গিয়ে পা পিছলে পুকুরে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মরদেহের কপালে স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন থাকায় এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন দেখা দিয়েছে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান,
“মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের তীব্র আপত্তি এবং লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
বর্তমানে নিহতের মরদেহ মনোহরদী উপজেলার নানাবাড়িতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং
মতামত