গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা-এর বারিষাব ইউনিয়নের পড়িয়াবর গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ আবারও নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে। সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান হওয়ার পরও পুনরায় থানায় অভিযোগ দায়ের করাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
বিরোধের পটভূমি
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গিয়াসউদ্দিনের দুই ছেলে আলামিন ও ইব্রাহিম এবং মমতাজ উদ্দিনের দুই ছেলে অলিউল্লাহ ও শহীদুল্লাহ—এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে প্রায় চার বিঘা জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন একই এলাকার হেলাল উদ্দিন ফালুর ছেলে আবুল কাশেম এবং তার স্ত্রী সাহিদা আক্তার।
এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়।
আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উভয় পক্ষের স্বজনদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে উভয় পক্ষের সম্মতিতে চার বিঘা জমির পরিবর্তে দেড় বিঘা জমি দিয়ে আপসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।
সেই সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেন—
উভয় পক্ষকে পূর্বের সব মামলা ও অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে।
আপস ভেঙে নতুন অভিযোগ, শুরু নতুন সংকট
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আপসের শর্ত বাস্তবায়ন না করে উল্টো নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, মামলা প্রত্যাহার তো করা হয়ইনি, বরং অভিযুক্ত আবুল কাশেমের স্ত্রী সাহিদা আক্তার বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানা-য় নতুন করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আপস-মীমাংসার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন
এলাকার একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“আমরা সামাজিকভাবে বসে দুই পক্ষের সম্মতিতে একটি স্থায়ী সমাধান দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে আবার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এতে করে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।”
তাদের মতে, এ ধরনের আচরণ ভবিষ্যতে কোনো সামাজিক সালিশ বা আপস-মীমাংসাকে নিরুৎসাহিত করবে এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি
ভুক্তভোগীরা জানান,
আপসের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরও তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন
নতুন অভিযোগ দায়ের করে তাদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে
তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্থায়ী সমাধান চান
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সঠিক তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। যেকোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই বিরোধে আপস-মীমাংসার পর পুনরায় মামলা দায়েরের ঘটনা শুধু আইনগত জটিলতা নয়, বরং সামাজিক আস্থার বড় সংকট তৈরি করছে।
এটি প্রমাণ করে—স্থানীয়ভাবে সমাধান হলেও আইনি কাঠামোর বাইরে থাকলে তা টেকসই হয় না।
কাপাসিয়ার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—
শুধু আপস নয়, আইনি সুরক্ষাসহ স্থায়ী সমাধানই হতে পারে একমাত্র পথ।
এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—
✔️ নিরপেক্ষ তদন্ত
✔️ প্রকৃত সত্য উদঘাটন
✔️ এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধান
মতামত