ইলিশে ভরবে সাগর-নদী: কোম্পানীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, আবদুল আউয়াল কোম্পানীগঞ্জ নোয়াখালী।
তারিখ: ৭ এপ্রিল, ২০২৬
“জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর নদী”—এই দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উদযাপিত হলো জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬। উপজেলার চরএলাহী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলে ও স্থানীয় জনসাধারনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ও গুরুত্ব
আলোচনা সভায় বক্তারা জাটকা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:
জাতীয় অর্থনীতি: ইলিশকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, জাটকা রক্ষা পেলে ইলিশের উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে জাতীয় জিডিপিতে।
সচেতনতামূলক কার্যক্রম: নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করা এবং জাটকা আহরণের কুফল সম্পর্কে জেলেদের আইনগত ও পরিবেশগত দিক থেকে সচেতন করা।
জনঅংশগ্রহণ: জাটকা রক্ষাকে কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে একটি ‘সামাজিক আন্দোলন’ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং চরএলাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দেন।
জনসচেতনতায় বিশেষ উদ্যোগ
আলোচনা সভা শেষে জাটকা রক্ষার গুরুত্ব সম্বলিত লিফলেট বিতরণ এবং এলাকায় প্রচারণার মাধ্যমে জেলেদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
উপসংহার: জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ পেলে আগামীতে ইলিশের প্রাচুর্য যেমন বাড়বে, তেমনি জেলেদের জীবনমানও উন্নত হবে। কোম্পানীগঞ্জের এই আয়োজন সেই লক্ষ্য পূরণে এক ধাপ এগিয়ে গেল।
মতামত