ছবি : খাস জমি দখল ও অপপ্রচারের রাজনীতি: প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনে 'চাঁদাবাজ' তকমা কেন?"
প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১:৫৮
একটি গ্রামের প্রাণ হচ্ছে তার খেলার মাঠ, জলাশয় আর উন্মুক্ত প্রকৃতি।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের আমদাবাদ মৌজার সরকারি খাস জমি আজ এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহলের লালসার শিকারে পরিণত হয়েছে।
যখন কোনো তরুণ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়,
তখন তাকে\' তকমা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সত্যকে ধমক দিয়ে সাময়িকভাবে আড়াল করা গেলেও চিরতরে মুছে ফেলা যায় না।
১. ভৌগোলিক সীমানা বনাম নাগরিক অধিকার।
অপরাধীদের দাবি—হাসারচরের ছেলের আমদাবাদের বিষয়ে কথা বলার অধিকার নেই। এটি একটি হাস্যকর ও আইনবহির্ভূত যুক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১(১) অনুযায়ী, "সংবিধান ও আইন মান্য করা এবং জনশৃঙ্খলারক্ষা ও জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
আমদাবাদ ও হাসারচর একই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। তাই এলাকার সম্পদ রক্ষা করা আমাদের যৌথ দায়িত্ব। খাস জমি কোনো ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তি নয়, এটি রাষ্ট্রের; আর রাষ্ট্র মানেই আমরা সাধারণ জনগণ।
২. ‘ভূমিহীন’ পরিচয়ের আড়ালে ভুয়া সনদের বাণিজ্য।
“ভূমিহীন” শব্দটির একটি আইনি মর্যাদা আছে। কিন্তু আমদাবাদে আমরা যা দেখছি, তা মূলত।
\'টাকার সিন্ডিকেট। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকাভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও,
এখানে
জমি আত্মসাৎ করা হচ্ছে। দণ্ডবিধি (Penal Code) এর ৪২০, ৪৬৭ ও যারা টাকার বিনিময়ে পুনর্বাসন নিতে চায়, তারা রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী।
৩. পরিবেশ ও ধর্মীয় অনুভূতির তোয়াক্কা নেই।
মাঠের পাশে অবস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। খাস জমি দখলের এই মহোৎসব শুধু সামাজিক পরিবেশ নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও হুমকির মুখে ফেলছে। এছাড়া ১ এপ্রিল মাটি কেটে বিক্রি করার যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মূলত \\\'বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ -এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। মসজিদের নাম ভাঙিয়ে মাটি বাড়ি বাড়ি বিক্রি করা শুধু নীতিহীন কাজ নয়, এটি ধর্মীয় অনুভূতির সাথেও প্রতারণা।
৪. খাল ভরাট: পরিবেশের অপমৃত্যু।
আমদাবাদ থেকে হওয়া পর্যন্ত যে খালটি ছিল, সেটি ভরাট করে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। \\\'জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০\\\' অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার বা খাল ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই খালের অপমৃত্যু মানেই এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা। কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়া এভাবে ঘর নির্মাণ করা মূলত রাষ্ট্রীয় জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ (Criminal Trespass), যা দণ্ডবিধির ৪৪১ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।
৫. কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা ও মিথ্যা অপবাদ।
যখনই কোনো সচেতন ছেলে বা স্থানীয় সংবাদকর্মী হিসেবে কেউ এসবের প্রতিবাদ করছে, তখনই তাকে \\\'চাঁদাবাজ\\\' বলে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত অপরাধীদের আত্মরক্ষার শেষ ঢাল। দণ্ডবিধি ৫০০ ও ৫০১ ধারা অনুযায়ী, কারো সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা রটনা করা মানহানির শামিল। প্রতিবাদকারীর কণ্ঠরোধ করার এই চেষ্টা প্রমাণ করে যে, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই।
আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি:
সঠিক তদন্ত: প্রশাসনকে অবিলম্বে আমদাবাদ মৌজার খাস জমির বর্তমান অবস্থা তদন্ত করতে হবে।
ভুয়া ভূমিহীন বাতিল করে:
প্রকৃত অভাবী মানুষের ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে।
খাস জমি পুনরুদ্ধার:
মাঠ, শ্মশান এলাকা এবং ভরাট হওয়া খাল পুনরুদ্ধার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
আইনি ব্যবস্থা:
যারা জালিয়াতি এবং মাটি বিক্রির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
পরিশেষে,
আমি হাসারচরের ছেলে হতে পারি, কিন্তু এই মাটির প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আমদাবাদের যেকোনো বাসিন্দার চেয়ে কম নয়। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু তা ঐতিহ্য আর পরিবেশ বিসর্জন দিয়ে নয়। ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। প্রশাসনকে বিনীত অনুরোধ করছি,
আমদাবাদের এই \'মিনি দেশ\' গড়ে তোলা সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন।
মতামত