সারাদেশ

ছোট এক কণ্ঠ” খাস জমি বাঁচানোর প্রথম প্রতিবাদ" কিশোরের চোখে গ্রামের বাস্তবতা!

প্রিন্ট
 ছোট এক কণ্ঠ” খাস জমি বাঁচানোর প্রথম প্রতিবাদ" কিশোরের চোখে গ্রামের বাস্তবতা!

ছবি : এক ছোট কণ্ঠ” খাস জমি বাঁচানোর প্রথম প্রতিবাদ কিশোরের চোখে গ্রামের বাস্তবতা!


প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০২৬, ভোর ৪:৪০

এক কিশোরের চোখে গ্রামের বাস্তবতা আমি বড় কেউ না। না কোনো নেতা, না কোনো জনপ্রতিনিধি। আমি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের ৬নং হাসারচর ওয়ার্ডের হাসারচর গ্রামের এক সাধারণ ছেলে। আমার পরিচয়—এই গ্রামের মাটি, এই মাঠ, এই স্মৃতি। আজ আমি লিখতে বসেছি—কারণ আর চুপ থাকা যাচ্ছে না। যে মাঠ ছিল আমাদের শৈশব আমাদের গ্রামের সেই খাস জমির মাঠটা শুধু একটা জমি না—এটা ছিল আমাদের স্বপ্নের জায়গা। এখানে আমরা খেলতাম, দৌড়াতাম, হাসতাম। এই মাঠেই হতো ঘোড়দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই—গ্রামের ঐতিহ্য, উৎসব, আনন্দ সবকিছুর কেন্দ্র ছিল এই জায়গা। আজ সেই মাঠ দখলের তালিকায়। আজ সেই মাঠ “ভূমিহীন” নামের আড়ালে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। ভূমিহীন—নাকি ভুয়া পরিচয়? আমি ছোট মানুষ, কিন্তু এতটুকু বুঝি— যে মানুষদের আমরা ছোটবেলা থেকে জমির মালিক হিসেবে চিনি, তারা হঠাৎ করে কীভাবে “ভূমিহীন” হয়ে যায়? গ্রামের মানুষ বলছে— জাল সনদ তৈরি হচ্ছে, নামের তালিকা বানানো হচ্ছে, আর সেই তালিকা দিয়ে খাস জমি দখলের চেষ্টা চলছে। যদি সত্যিই কেউ ভূমিহীন হয়—আমরা তো তাদের পাশে থাকব। কিন্তু ভুয়া পরিচয়ে দখল—এটা কি ন্যায্য? মাটি কাটার নামে কী হচ্ছে? কয়েকদিন আগে দেখলাম—বেকু দিয়ে আমাদের সেই জমি কাটা হচ্ছে। শুনলাম—“মসজিদের জন্য মাটি লাগবে।” কিন্তু প্রশ্ন হলো— মসজিদের জন্য মাটি কাটলে সেই মাটি বাড়ি বাড়ি বিক্রি হয় কেন? সেই টাকার হিসাব কোথায়? আমরা ছোট, কিন্তু অন্ধ না। আমাদের গ্রাম কি সিন্ডিকেটের হাতে? গ্রামে একটা কথা এখন ঘুরছে— সবকিছুর পেছনে নাকি একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। আমি নাম বলতে চাই না, অভিযোগ করতে চাই না— কিন্তু একটা কথা বলতে চাই— যদি সত্যি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই দখল প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকে, তাহলে সেটা শুধু জমি দখল না—এটা আমাদের ভবিষ্যৎ দখল। সম্প্রীতির জায়গাও হুমকিতে এই খাস জমির পাশেই আছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান। আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি—সব ধর্মের মানুষ এখানে শান্তিতে সহাবস্থান করে। আজ যদি এই জায়গাও দখলের শিকার হয়— তাহলে শুধু জমি না, আমাদের সম্প্রীতিও হারিয়ে যাবে। ⚖️ আইন কি শুধু বইয়ের পাতায়? আমরা বইয়ে পড়েছি— সরকারি খাস জমি কেউ দখল করতে পারে না। ভূমিহীনদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। তাহলে আজ এই নিয়মগুলো মানা হচ্ছে না কেন? আইন কি শুধু দুর্বলদের জন্য? আমার প্রশ্ন, আমার প্রতিবাদ আমি ছোট মানুষ, কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন আছে খাস জমি দখল বন্ধ হবে কবে? ভুয়া ভূমিহীনদের তালিকা কে বানাচ্ছে? মাটি বিক্রির টাকা কোথায় যাচ্ছে? জনপ্রতিনিধিরা জানেন না—নাকি চুপ আছেন? আমি ভয় পাই, তবুও বলছি হয়তো এই লেখা লেখার জন্য আমাকে কেউ পছন্দ করবে না। হয়তো চাপ আসবে, ভয় দেখানো হবে। তবুও আমি লিখছি— কারণ এই মাঠ আমার, এই গ্রাম আমার। আমাদের দাবি আমি একজন ছোট ছেলে হিসেবে বড়দের কাছে দাবি জানাই— খাস জমি দখল বন্ধ করুন প্রকৃত ভূমিহীনদের যাচাই করুন জালিয়াতদের আইনের আওতায় আনুন আমাদের খেলার মাঠ ফিরিয়ে দিন শ্মশান ও ঐতিহ্য রক্ষা করুন শেষ কথা আজ আমি একা লিখছি। কাল হয়তো আমার মতো আরও অনেকে লিখবে। কারণ সত্য একদিন না একদিন উঠে দাঁড়ায়ই। আমি হাসারচরের এক ছোট ছেলে— কিন্তু আমার কণ্ঠ থামবে না।