সারাদেশ

বাঁশের খুঁটির অভাবে রেখা রানীর রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে।

প্রিন্ট
বাঁশের খুঁটির অভাবে রেখা রানীর রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে।

প্রকাশিত : ১০ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০৬

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ শুধু কয়েকটি বাঁশের খুঁটির অভাবে ১০ দিন ধরে, খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করছেন রেখা রানী নামে স্বামী পরিত্যক্ত এক নারী। এখনও তার কপালে জোটেনি কোনো সাহায্য। এ চিত্র নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদখানা বগুলাগাড়ী কামারপাড়া গ্রামের। রেখা রানী ওই এলাকার মৃত তরণী রায় ও মৃত পূর্ণিমা রানী রায় দম্পত্তির মেয়ে। তার একমাত্র ভাই দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়ে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোনো রকম জীবনযাপন করেন। প্রতিবেশী নমিতা রাণী জানান, বিয়ের পর রেখার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে স্বামীর পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন যন্ত্রণা দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। ফলে সে বাপের ভিটায় এসে বসবাস শুরু করে। ধীরে ধীরে সেও কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ওর দিকে তাকালে খুব খারাপ লাগে। সারাদিন খেয়ে-না খেয়ে থাকে। মাথা গোঁজার মতো একটি চালা ছিল; সেটিও ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। চোখের সামনে ওর এত কষ্ট দেখে মাঝে-মধ্যে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আমি তাকে ভাত খাওয়াই। রেখা রাণী বলেন, আমার থাকার ঘর নেই, ভালো পানি ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। মানুষের বাড়িতে কাজ করলে খাই, না হলে অনাহারে থাকি। মাঝে-মধ্যে প্রতিবেশীরা খেতে দেয়, তখন খাই। আর আমার ভাই নিজেই কষ্ট করে জীবনযাপন করে। আমাকে কীভাবে খাওয়াবে? আমার থাকার ঘরের চালাটা মাটিতে পড়ে গেছে। এজন্য খোলা আকাশের নিচেই ঘুমাই। চেয়ারম্যান-মেম্বার, এমন কি সরকারিভাবেও কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি। কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, বিষয়টি আমি এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে শুনেছি; কিন্তু নানাবিধ কাজের চাপে ব্যস্ত ছিলাম। শিগগিরই খোঁজখবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।