রাজনীতি

বড় দুই জোটে লড়াইয়ে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসন

প্রিন্ট
বড় দুই জোটে লড়াইয়ে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসন

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ১১:১১

বড় দুই জোটে লড়াইয়ে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসন মোঃ আবু তালহা সাভার প্রতিনিধি : এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে সকল প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লড়াই হতে পারে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর মধ্যে। নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীরা ও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ভোটের মাঠে প্রভাব তাদের কিছুটা কমই বলা চলে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই সংসদীয় আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। পোস্টার, ব্যানার আর মাইকিংয়ে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো সাভার-আশুলিয়ার এলাকার প্রতিটি চায়ের দোকান, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার অলি-গলিসহ সর্বত্র। মানুষ এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোট দিতে মুখিয়ে আছে । তবে জানে না অনেকেই গণভোটের বিষয়টি। তাই গণভোট নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দে সাধারন ভোটাররা। ​এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও নতুন মুখ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই দ্বিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ মার্কা) হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি -এনসিপি মনোনীত (শাপলা কলি মার্কা) জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনপুষ্ট ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি সাভার-আশুলিয়াকে আধুনিক ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। মূলত ঢাকা ১৯ সংসদীয় আসনে এদুজন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা হবে বলে জানা যায়। এছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মনোনীত চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (ছাতা মার্কা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত মোহাম্মদ ফারুক খান (হাতপাখা মার্কা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনোনীত মোঃ ইসরাফিল হোসেন সাভারী (আম মার্কা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মনোনীত মোঃ কামরুল (হারিকেন মার্কা), জাতীয় পার্টি মনোনীত মোঃ বাহাদুর ইসলাম (লাঙ্গল মার্কা) ও গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত শেখ শওকত হোসেন পেয়েছেন (ট্রাক মার্কা) ​এবারের নির্বাচনের প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণার কৌশল হিসেবে ডিজিটাল এবং এনালগ—উভয় মাধ্যমেই প্রচারণা চালাচ্ছেন, এর সাথে চলছে প্রতিটা ইউনিয়নের ওয়ার্ডে, পাড়া-মহল্লার অলিতে গলিতে পথসভা ও গণসংযোগ। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, আশুলিয়া, বাইপাইল, জামগড়া, জিরাবো, কাঠগড়া, বিরুলিয়া, রাজাশনসহ অন্যান্য এলাকায় প্রার্থীরা নিয়মিত পথসভা ও গণসংযোগ করছেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রার্থীদের উন্নয়নমূলক ভিডিও ও নির্বাচনী গান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে অপরদিকে নারী ভোটারদের টানতে প্রার্থীরা পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠকের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। ​এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৯২টি। প্রার্থীরা যেমন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন ঠিক আবার তেমনি ভোটাররাও প্রার্থীদের কাছ থেকে সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজ প্রাপ্তির প্রত্যাশা বা দাবি করতে লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের প্রত্যাশা ও দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সাভার ও নবীনগর এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান, পোশাক শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাভার ও আশুলিয়ার রাস্তাঘাট হকার মুক্ত করা ও হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসের ব্যবস্থা করা, তরুণ ভোটারদের একটি চাঁদাবাজ, মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সাভারের প্রত্যাশা। পরিশেষে বলা যায়, ঢাকা-১৯ আসনে এবারের লড়াই শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার নয়, বরং স্থানীয় উন্নয়নের অঙ্গীকার রক্ষারও। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে কে শেষ হাসি হাসবেন, তা নিয়েই এখন চলছে চায়ের কাপে ঝড়।