ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে চুরির চেষ্টা, দুইজন আটক—স্থানীয় শালিসে আপোষ
ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে আজ সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি দক্ষিণ জোড়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওবায়দুল হক-এর বাড়ির পূর্ব পাশে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে, তার নিজস্ব মোটর ঘর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটর ঘরে মোটর বন্ধ ও কাটা অবস্থায় দেখতে পান প্রধান শিক্ষক মোঃ ওবায়দুল হক। এ সময় তার উপস্থিতি টের পেয়ে একজন যুবক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ঘটনাস্থলেই দুইজন সহযোগীকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা।
আটককৃতরা হলেন—
১. মোঃ তাজেল ইসলাম (২৫)
পিতা: মৃত তাহিরুল ইসলাম
মাতা: মসেদা বেগম
২. বিমল রায়
স্ত্রী: গীতা রানি
আটকের পর উত্তেজিত জনতা তাদের দুজনকে কিছুটা মারধর করে। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের মারধর থেকে রক্ষা করে এবং দক্ষিণ জোড়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিরাপদে আটক করে রাখে।
পরবর্তীতে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুরুব্বি ও যুবসমাজের উদ্যোগে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে আলোচনার মাধ্যমে আটককৃতদের নিয়ে একটি আপোষনামা প্রস্তুত করা হয়। আপোষনামায় তারা অঙ্গীকার করে—
তারা ভবিষ্যতে একসাথে চলাফেরা করবে না
কোনো ধরনের সুবিধাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াবে না
চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে।
উক্ত আপোষনামায় আটককৃতদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সাক্ষর গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে শালিসে উপস্থিত স্থানীয় মুরুব্বি ও যুবকদের সাক্ষরও নেওয়া হয়।
শালিস ও আপোষনামায় সাক্ষরকারী এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—
মোঃ ওবায়দুল হক (প্রধান শিক্ষক) (৬০)
জসিয়ার রহমান (মিউসুক পরিচালক) (৬৫)
মনিরুজ্জামান (ট্রাক চালক) (৪০)
নুরনবি ইসলাম (ব্যবসায়ী) (৪০)
ওয়াহেদুল ইসলাম (বাঁশ ব্যবসায়ী) (৪০)
মাশিদুল ইসলাম (দোকানদার) (৩৮)
হাফিজার রহমান (সদস্য, ছাত্রদল) (২৭)
আপন ইসলাম (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) (১৭)
রইছুল ইসলাম (প্রবাসী) (১৯)
এছাড়াও নুরজামাল, দুলাল, রায়হান, জুবাইদ, হৃদয়, সাইদি, লিখনসহ আরও কয়েকজন নাম অজানা ব্যক্তি শালিসে উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত ব্যক্তিদের নেতৃত্বেই শালিস পরিচালিত হয় এবং সবার সম্মতিক্রমে আপোষনামা সম্পন্ন করা হয়।
আপোষনামা শেষে ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড চৌকিদারসহ ৩ জনের উপস্থিতিতে আটককৃতদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিবার থেকে তাদের শাসন ও কিছু মারধর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মতামত