ছবি : জামালগঞ্জে ইউপি সদস্য আকাশ আহমেদের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও মাদক সেবনের অভিযোগ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ১০:২৬
জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আকাশ আহমেদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলা, জনপ্রতিনিধির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং এলাকায় কার্যত অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ওয়ার্ডের কোনো খোঁজখবর রাখছেন না, নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ অফিসেও যাচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ডে সম্প্রতি দুটি শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার হিসেবে আকাশ আহমেদের কোনো কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি। এমনকি এলাকাবাসীর দাবি, এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগতই ছিলেন না—যা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বহীনতার নগ্ন উদাহরণ।
ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আকাশ আহমেদের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে আসেন না। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি রয়েছে, এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তাদের দাবি, আকাশ আহমেদ নিয়মিত মাদক সেবনে আসক্ত এবং ইয়াবা সেবনের সঙ্গেও জড়িত। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি, তবে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওয়ার্ডের উন্নয়ন, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি কিংবা জরুরি কোনো বিষয়ে তাকে কখনো পাওয়া যায় না। সাংবাদিকরা একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গণমাধ্যম ও জনসাধারণকে এড়িয়ে চলছেন।
একজন প্রবীণ এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বানালাম, কিন্তু বিপদের সময় তাকে খুঁজে পাই না। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আকাশ আহমেদের বক্তব্য জানতে বারবার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ইউনিয়ন পরিষদ অফিসেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
⚖️ আইনগত দিক ও সম্ভাব্য ব্যবস্থা
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী—
কোনো ইউপি সদস্য যদি
দায়িত্বে অবহেলা করেন,
নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন,
অথবা অসদাচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়,
তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত গঠন, কারণ দর্শানোর নোটিশ, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা পদ থেকে অপসারণ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এলাকাবাসী এখন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রতিনিধির দায়িত্বহীনতার কারণে একটি ওয়ার্ডের সামাজিক নিরাপত্তা, শিশু সুরক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মতামত