সারাদেশ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিষপানে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

প্রিন্ট
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিষপানে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ছবি : জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিষপানে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা


প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, বিকাল ৫:০৯

নিহত মুসলিমা ওই গ্রামের মোফাজ্জল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে মুসলিমা বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কিছু সময় পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কী কারণে ওই কিশোরী বিষপান করেছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বিনোদেরচর গ্রাম থেকে মরদেহটি থানায় নিয়ে আসা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি। বর্তমানে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কার্যক্রম চালাচ্ছে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে নিহত কিশোরীর বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আত্মহত্যার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।” জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীর ওপর তাঁর আপন ভাইয়ের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হামলাকারীরা তাঁর বসতঘর ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে ওই পরিবারটি প্রাণনাশের হুমকিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মেষেরচর পূর্বপাড়া এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। আহত নারী মেষেরচর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. আসাদ আলী পরিকল্পিতভাবে এই হামলার নেতৃত্ব দেন। বুধবার সকালে আসাদ আলী তাঁর ছেলে ও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মো. রেজাউল মিয়ার বসতবাড়িতে চড়াও হন। হামলাকারীরা জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে চালাঘর ভাঙচুর শুরু করে। একপর্যায়ে আসাদ আলীর নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা তাঁরই আপন বোনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওই নারী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। তখন হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আহত নারীর ছেলে মো. রেজাউল মিয়া বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এর আগেও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় মামলা করা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কা করছেন। বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মেষেরচর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।