বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজের অবিসংবাদিত নেতা, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, চতুর্থ সংঘরাজ মহামান্য ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের মহোদয়ের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আজ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ শুক্রবার,(১৯ নভেম্বর) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মগবান শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ ভক্ত ও অনুসারীর উপস্থিতিতে গভীর শ্রদ্ধা আর শোকাবহ পরিবেশে প্রিয় গুরুকে শেষ বিদায় জানানো হয়। জনসমুদ্রে পরিণত মগবান বিহার প্রাঙ্গণ
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই বাঘাইছড়ির মগবান এলাকায় মানুষের ঢল নামে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ সারা দেশ থেকে আসা লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে বিহার প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ধর্মীয় গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দিনের কর্মসূচিতে ছিল পিন্ডদান, সূত্র পাঠ এবং পঞ্চশীল গ্রহণ।
জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদের উপ-সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকর মহাথেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বাবু সুপ্রদীপ চাকমা।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য বাতিঘর ছিলেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আগামী প্রজন্মের পাথেয় হয়ে থাকবে।"
অনুষ্ঠানে শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান বাবু সুদত্ত চাকমা, জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে প্রিয় গুরুকে স্মরণ করেন।
বিকেল ৩টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন এবং আকর্ষণীয় পর্ব ‘গাড়ি টানা’। লাখো ভক্তের ‘সাধু সাধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সবশেষে বিকেল ৪টায় ধর্মীয় শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী অগ্নিদাহের মাধ্যমে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। চিতার আগুন জ্বলে ওঠার সাথে সাথে লাখো ভক্তের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মহামান্য চতুর্থ সংঘরাজের প্রয়াণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের একটি স্বর্ণালী যুগের অবসান ঘটল। তাঁর ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারে তাঁর অসামান্য অবদান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মতামত