ছবি : জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র জনতার মিছিলে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা-ভাঙচুর, সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা-ভাঙচুর, সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বকশীগঞ্জ, জামালপুর: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নুর মোহাম্মদসহ ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক
বকশীগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা শাহরিয়ার আহমেদ সুমন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর, ২০২৫) বকশীগঞ্জ থানায় মামলাটি রুজু করেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
আসামি তালিকায় যারা
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ প্রধান আসামি। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার (নুর মোহাম্মদের )
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম
সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জুমান তালুকদার ও জহুরা বোগম
সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য শিলা সারোয়ার ও জয়নাল আবেদীন
বাট্টাজোড় ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল তালুকদার
সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু
ধানুয়া কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাকপতি
মেরুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক
উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাজন মিয়া সহ মোট ৫৯ জন নামীয় এবং ২০০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
আন্দোলন দমাতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের (২০২৪) জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৭ জুলাই বিকাল ৩ টার দিকে বকশীগঞ্জ পৌর শহরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা একটি মিছিল বের করে। আন্দোলন দমাতে নামীয় আসামিরাসহ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা মিছিলে হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে তারা বিসমিল্লাহ হোটেলে অগ্নিসংযোগ করেন। পরদিনও সরকার পতনের লক্ষ্যে ছাত্র জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আসামিরা আবারও হামলা ও ভাঙচুর চালায়, যার ফলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ জানান,
"আমরা মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। এই মামলায় তদন্ত করে এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।"
জুলাই মাসে হামলার পর সরকার পতনের ফলে চিহ্নিত নেতা কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ায় দেরিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী শাহরিয়ার আহমেদ সুমন।।।
মতামত