সারাদেশ

যমুনা উপজেলা চেয়ে গণসংযোগ -জন গনের স্বতস্ফূর্ত সাড়া

প্রিন্ট
যমুনা উপজেলা চেয়ে গণসংযোগ -জন গনের স্বতস্ফূর্ত সাড়া

ছবি : যমুনা উপজেলা চাই : সংগৃহীত


প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২৫, রাত ৯:৫৪

কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি :সবুর 

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা চরে অবস্থিত ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে “যমুনা উপজেলা” গঠনের দাবি বছর পেরিয়ে গেছে। এ সংক্রান্ত পত্র ইতোমধ্যে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পৌঁছেছে। এতে আশায় বুক বাঁধছে চরাঞ্চলের প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু প্রশাসনিক সুবিধার বিষয় নয়, বরং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে “যমুনা উপজেলা বাস্তবায়ন চাই” কমিটি। সম্প্রতি মাঠ, ঘাট ও হাটে একের পর এক গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা স্থানীয় জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে তাদের সমস্যা ও আশা শোনাচ্ছে। “যমুনা উপজেলা বাস্তবায়ন চাই” — এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে তারা সচেতনতা সৃষ্টি করছে এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যমুনার পূর্বপাড়ের ছয় ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন প্রশাসনিক বঞ্চনার শিকার। নৌপথ নির্ভর ভৌগোলিক দূরত্ব, যোগাযোগের জটিলতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা কষ্টকর হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পেলে যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়, যা স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য সরকারি সেবা পৌঁছাতে বাঁধা সৃষ্টি করে।

এই আন্দোলনের সূচনা স্বপ্নদ্রষ্টাদের অন্যতম প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন:

> “যমুনা উপজেলা গঠন হলে প্রশাসনিক সেবা হাতের নাগালে আসবে এবং স্থানীয় উন্নয়নও দ্রুত হবে। আমাদের শিশু ও বৃদ্ধরা আর দূরবর্তী অফিসে যেতে হবে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়ন সবই সহজলভ্য হবে।”

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ইঞ্জিনিয়ার ফরিদুল ইসলাম, রবিউল হাসান সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার সোহাগ রানা, সাইফুল্লাহ গালিবসহ এলাকার তরুণ ও প্রবীণ সমাজের অসংখ্য সচেতন মানুষ। তারা প্রত্যেকেই বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব।

সবার কণ্ঠে একটাই স্লোগান ছিল:“ছয় ইউনিয়নের এক চাওয়া, যমুনা হবে নতুন উপজেলা!”চরবাসী শত বছরের অবহেলা থেকে মুক্তি চায়। তাদের আশা — যমুনা উপজেলা গঠিত হলে মানুষের জীবনে গতি ও বৈচিত্র্য আসবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সবই সহজ হবে। স্থানীয় ব্যবসা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাবে।গণসংযোগ চলাকালে সাধারণ মানুষ হাত উঁচু করে সমর্থন জানিয়েছে:> “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য, আমাদের নিজের অস্তিত্বের জন্য — যমুনা উপজেলা চাই! আমরা চাই, আমাদের এলাকার উন্নয়ন ও স্বাচ্ছন্দ্য!”এই কর্মসূচি দেখিয়েছে যে যমুনার পূর্ব তীরের মানুষ আর অবহেলার অন্ধকারে থাকতে চায় না। তারা ঐক্যবদ্ধ, দৃঢ় এবং সচেতন। তাদের দাবি একটাই:“যমুনা উপজেলা বাস্তবায়ন হোক, এখনই হোক!”সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান — বঞ্চিত চরবাসীর আশা ও চাওয়ার প্রতি সদয় হওয়া। জনগণের অকৃত্রিম অংশগ্রহণে এই প্রোগ্রামগুলো এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই গণসংযোগের মাধ্যমে শুধু প্রশাসনিক দাবি নয়, বরং চরাঞ্চলের মানুষ সচেতন ও একত্রিত হচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।