সারাদেশ

আবারো আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাচ্ছে বিদেশিদের হাতে

প্রিন্ট
আবারো আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাচ্ছে বিদেশিদের হাতে

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১০:৫৯

আবারো আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাচ্ছে বিদেশিদের হাতে

নাঈমুল ইসলাম রকি 

বর্তমান বাস্তবতা (সংক্ষেপে)

সরকার আলোচনায় এগোচ্ছে: চট্টগ্রামের New Mooring Container Terminal (NCT) সম্পর্কিত অপারেশন নিয়োগ—বিদেশি অপারেটর (উদাহরণ: UAE-ভিত্তিক DP World) নিয়েও সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা ও প্রস্তাবনা চলছে। এই বিষয়ে সংবাদ এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ্য আছে। 

নৌবাহিনী-সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে NCT পরিচালনা করছে, যতক্ষণ না চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে বা চুক্তি সম্পন্ন হয়। 

ব্যাপক সাড়া ও প্রতিবাদ আছে: শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজে উদ্বেগ ও বিক্ষোভ (সামরিক/সার্বভৌমত্ব, কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা) দেখা দিয়েছে; হাইকোর্টেও মামলা চলছে (বিচার করণালয় শুনানিও চলমান)। 

> সংক্ষেপে: বিষয়টি শুধু বন্দর ব্যবস্থাপনা–নৈতিক নয়; এটা রাজনৈতিক, কাতার/সংরক্ষণগত ও অর্থনৈতিক জীবনের বড় এক সিদ্ধান্ত — তাই জনসচেতনতা, আইনগত যাচাই ও রাজনৈতিক তূলনার প্রয়োজনীয়তা স্বাভাবিক।

আপনার প্রধান উদ্বেগগুলোর আশু জবাব (তথ্য ও বিশ্লেষণ)

1. সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন — যুক্তিযুক্ত। দেশের সহিংস বা অনুকূলে না থাকা চুক্তি হলে এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। অনেক দেশের মতো এখানে কড়া জাতীয়-নিরাপত্তা ধারা থাকা উচিত। (সংশ্লিষ্ট পরামর্শ নিচে)।

2. অর্থনৈতিক লাভ-লোকসান — বিদেশি অপারেটর ইনভেস্টমেন্ট, দক্ষতা, অটোমেশন আনতে পারে; কিন্তু লোকস্বরোগ/ট্যারিফ/স্থানীয় উপকারিতা কমে যেতে পারে যদি শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল থাকে। কিছু বিশ্লেষক বলে চুক্তি যদি সঠিকভাবে কনফিগার করা না হয় তা ক্ষতিকর হতে পারে। 

3. স্থানীয় ক্ষমতা/করাপশন — আপনি যা বলছেন তার মূলে আছে: অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অপারেশনাল ব্যর্থতা। তাই নীতি-পরিবর্তন না করে বিদেশি হাতেই সরাসরি হস্তান্তর করলে সমস্যাগুলি শুধু অন্য হাতেই চলে যাবে — শর্ত, নিরীক্ষা, জব রক্ষার নিশ্চয়তা না থাকলে। 

বাস্তবসম্মত বিকল্প ও রক্ষা-কাব্যকর নীতি (স্তরের ভিত্তিতে)

১) স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ও G2G নয়: যদি বিদেশী অংশগ্রহণ দরকার হয়, খোলা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার এবং স্বতন্ত্র লিগ্যাল/ফাইন্যান্সিয়াল পরখ যেন বাধ্যতামূলক করা হয় — G2G বা অদৃশ্য ব্যাকডোর এড়াতে। (অনেক বিশ্লেষকও এটাই বলছেন)। 

২) জাতীয়-নিরাপত্তা ধারা (National security clause): চর্তূফী চুক্তিতে স্পষ্ট ধারা — কবে, কোন পরিস্থিতিতে অপারেটরকে অপসারণ করা হবে; সেনা/নৌবাহিনীকে জরুরি সময়ে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার অধিকার; সেন্সিটিভ জোন-অপসার্ভেশন।

৩) রক্ষণাবেক্ষণ ও মালিকানা আলাদা রাখা: অপারেশনাল ম্যানেজমেন্ট যদি বিদেশী নেয় — পোর্টের জমি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং প্রধান অবকাঠামো (কাঠামোগত নিরাপত্তা) রাষ্ট্রই রাখবে। অর্থাৎ লিজ ≠ সম্পূর্ণ হস্তান্তর। 

৪) লোকাল জব-প্রটেকশন এবং স্থানান্তর-শিক্ষা: চুক্তিতে স্থানীয় কর্মীদের জন্য পর্যায়ক্রমিক কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা, ট্রেনিং ও দক্ষতা হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা রাখুন।

৫) স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ এবং প্রকাশ্য অডিট: আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থা বা স্থানীয় নিবন্ধিত অডিটর নিয়মিত অডিট করবে এবং ফলাফল প্রকাশ্য হবে।

৬) আইনি ও জনমতপ্রক্রিয়া: বড় সিদ্ধান্ত-গুলোর আগে সংসদীয় শুনানি/পাবলিক কনসালটেশন/উপকারভোগী স্টেকহোল্ডার সভা — যাতে গণতান্ত্রিকভাবে সীমারেখা ঠিক করা যায়। হাইকোর্টের মামলা ও জনবিক্ষোভ ইতোমধ্যেই এরই অংশ। 

আপনি (যদি চান) কী করতে পারেন — বাস্তব পদক্ষেপ

তথ্য জোগাড়ে সক্রিয় থাকুন: সরকারি নথি, চুক্তির খসড়া, CPA ঘোষণাপত্র ইত্যাদি অনলাইনে খুঁজে দেখুন; সাংবাদিকদের রিপোর্ট অনুসরণ করুন। (উপরের কিছু সংবাদ লিংক ভিত্তি)। 

জোরালো জনমত তোলা: সামাজিক সংগঠন, শ্রম ইউনিয়ন বা স্থানীয় প্রতিনিধি মাধ্যমে গণসংযোগ, সমাবেশ, অনলাইন পিটিশন — সবই সহায়তা করে সরকারের উদ্দেশ্যকে আরও প্রাসঙ্গিকভাবে বিচার্য করতে। (প্রায়ই প্রতিক্রিয়া ভোট/রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে)। 

আইনি চ্যানেল ব্যবহার: যদি মনে করেন অনিয়ম আছে, বা সংবিধানগত/আইনগত প্রশ্ন আছে— হাইকোর্টে পিটিশন, RTI/গ্রাহক অধিকার আইনে তথ্য দাবি। (HC ইতোমধ্যেই মামলা স্থগিত করেছে/শুনানি চলছে)। 

শেষ কথা 

আপনার উদ্বেগ যৌক্তিক এবং দেশের স্বার্থে থাকা চাই। একই সঙ্গে সরকারের কথা: দ্রুত, দক্ষ বন্দর-পরিচালনা দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন — কিন্তু তা করতে হবে স্বচ্ছতা, সংবিধান ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক শর্তে। বিদেশি অংশীদার নিলে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারাপ নয় — কিন্তু চুক্তির শর্ত, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া, জাতীয় নিরাপত্তা ক্লজ, স্থানীয় কর্মী সুরক্ষা এবং পাবলিক অডিটিং থাকতে হবে। এগুলো না থাকলে আপনার হতাশা ও আশঙ্কা পুরোটাই বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠে — ঠিক সেই কারণেই জনসচেতনতা ও আইনি পর্যালোচনা অপরিহার্য।