রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী” মোছাঃ বিউটি আক্তার, পিতা মোঃ আউয়াল, মাতা মোছাঃ জমেলা খাতুন, গ্রামঃ বোয়ালমারী, ইউনিয়ন, শৌলমারী, রৌমারী, কুড়িগ্রাম। বাবা প্রতিবন্ধী হওয়ায় চারবোনের উপর ছিল সংসারের দায়িত্ব। দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহন করেও তিনি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জল উদহরণ বিউটি আক্তার। অভারের সংসার হওয়ার পরও তিনি লেখাপড়ার স্বপ্ন ছাড়েননী। লেখাপাড়ার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় মহিলাদের নিকট দর্জির কাজ শেখেন। শৌলমারী ইউনিয়নের যুব সদস্য হিসেবে কিশোরী ও নারীদের নিয়ে সচেতনতা মূলক সভা করেন। বিউটি আক্তার এখন এলাকার সকল তরুণীদের প্রেরণা, তার জীবন কথা শেখায়-অভাব সাফল্যের পথ বন্ধ করতে পারে না, যদি হৃদয়ে থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
সফল জননী নারী: মোছাঃ রাশেদা বেগম, পিতা মৃত জহির উদ্দিন, মাতা মোছাঃ মোক্তারন নেছা, গ্রামঃ কলেজপাড়া, ইউনিয়ন: রৌমারী, রৌমারী,
কুড়িগ্রাম। দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিবাহ হয়। স্বামী সরকারি চাকুরীজীবী ছিলেন। মাত্র ১৩ বছরের সংসার জীবনে স্বামী ইন্তেকাল করেন। ১ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে কালাতি পাত করছি। ছেলে মেয়েদের কে লালন পালন ও সুশিক্ষায় করতে গিয়ে আমি ভেঙ্গে পড়েছিলাম। স্বামীর সামান্য দেয়া জমির উপর ছেলে মেয়েদের কে লেখাপড়ার খরচ চালাতে থাকি। ছেলে মেধাবী হওয়ায় মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বর্তমানে আমার ছেলে একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন।
সামাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী মোছা: সানজিদা পারভীন, পিতা মোঃ সোহরাব হোসেন, গ্রাম: ঝগড়ারচর, ইউনিয়ন: দাঁতভাঙ্গা, রৌমারী, কুড়িগ্রাম। সানজিদা পারভীন দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। ছোট বেলা থেকেই তার সাহসিকাতা অসাধারণ। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের যুব সমাজ কল্যাণ সংগঠন এর নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিয়মিত নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক সচেতনতা মূলক সভা ও কিশোরীদের নিয়ে বাল্যবিবাহের কুফল ও মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব, নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। তাঁর নেতৃত্বে কিশোরী ও নারীদের জন্য স্বনির্ভরতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিনের প্রশিক্ষণের কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী মোছাঃ রাজিয়া সুলতানা, পিতা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, গ্রাম: ঝগড়ার চর, ইউনিয়ন: দাঁতভাঙ্গা, রৌমারী, কুড়িগ্রাম। দরিদ্র মা-বাবার ৩ সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান রাজিয়া সুলতানা। অভাবের সংসারের মধ্যেও ২০০৭ সালে এস.এস. সি, ২০১০ সালে এইচ.এস. সি এবং ২০১৩ সালে বি. এস. এস পাশ করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন এবং একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ভলানটিয়ার হিসেবে কাজ করে সংসারের অভার মোচনের চেষ্টা করতেন। সমাজসেবা মূলক কাজের পাশাপাশি তিনি দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৭.৮.৯ সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ২০২৩ সালে ১০টি ইউনিয়নে ও ৩ টি উপজেলার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
মতামত