যশোরের নওয়াপাড়ায় বুক সমান গর্ত খুঁড়ে ব্যবসায়ীকে পুতে রেখে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায় মামলায় আটক কামরুজ্জামান মিঠুকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালতে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুবাইদা রওশন আরা এই আদেশ দেন। এদিকে এই মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান জনির পিতা কামরুজ্জামান মজুমদারকে একইদিন আটকের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে প্রধান দুই অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান জনি ও মফিজুর রয়েছে এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর নওয়াপাড়া বাজারে মেসার্স জাফ্রিদি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে ব্যবসা করাকালিন প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান জনি তার সহকর্মী সৈকত হোসেন হিরাকে দিয়ে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে ধরে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর টিপুর স্ত্রী সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনির নিজ প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে ২ কোটি টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (জঞএঝ) করেন। টাকা পেয়ে ওইদিন ব্যবসায়ী টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ব্যবসায়ী টিপু গ্রামের বাড়ি চলিশিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট পার হলে সৈকত হোসেন হিরা তার গতিরোধ করেন। এরপর বেলা ৩টা পর্যন্ত টিপুর মুঠোফোনটা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারেন টিপুকে আসাদুজ্জামান জনির কনা ইকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর টিপুর স্ত্রী সেখানে গেলে আসাদুজ্জামান জনি, সম্রাট হোসেন, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে টিপুকে মারপিট করে। এরপর বুক পর্যন্ত গর্ত খুড়ে বালু চাপা দিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করে। এসময় ব্যবসায়ী টিপু বাধ্য হয়ে তার ম্যানেজারকে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। এরপর ম্যানেজার সাংবাদিক মফিজের একাউন্টে পুবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লক্ষ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লক্ষ টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (জঞএঝ) করে। এসময় মফিজ আরও ১ কোটি টাকার চেক আদায় করে। পাশাপাশি জনির নামে ক্রয়কৃত ৩ টি ও দিলিপ শাহার নামে ক্রয়কৃত ৩টি ১০০ টাকার ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর কাউকে কিছু বললে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী টিপুর স্ত্রীর গত শনিবার রাতে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওইদিন রাতেই আসামি কামরুজ্জামান মিঠুকে আটকের পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
এছাড়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত অভয়নগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজকে রোববার সংগঠন থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাকেও গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এই মামলায় আসামি মিঠুকে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানার এসআই সালাউদ্দিন খান আদালতে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার শুনানী শেষে বিচারক তাকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। একইদিনে এই মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান জনির পিতা কামরুজ্জামান মজুমদারকে আটকের পর আদালতৈর মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মতামত