ছবি : সালথায় সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর-লুটপাট
প্রকাশিত : ৮ জুন ২০২৬, বিকাল ৪:১৮
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে প্রায় ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত রোববার (৭ জুন) রাতে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে হাবিবুর মোল্যার সমর্থক হাফিজুর মাতুব্বরকে প্রতিপক্ষ আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এই ঘটনার মীমাংসার জন্য গত রোববার সালথা থানায় একটি সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। হাবিবুর মোল্যার সমর্থকরা সালিশে অংশ নিতে রাজি হলেও আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা তা অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রণক্ষেত্রে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে এ সময় অন্তত ২০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন হাবিবুর মোল্যা এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আজিজুল মোল্যা। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় আহত হন অন্তত ২০ জন। আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বেশ কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের প্রধান নেতা হাবিবুর মোল্যা ও আজিজুল মোল্যা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন: "আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মতামত