সারাদেশ

মায়ের প্রতি অবহেলাকারী কখনো প্রজাতন্ত্রের সেবক হতে পারে না: হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি

প্রিন্ট
মায়ের প্রতি অবহেলাকারী কখনো প্রজাতন্ত্রের সেবক হতে পারে না:  হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি

প্রকাশিত : ৩ জুন ২০২৬, রাত ৯:৩৫

মায়ের প্রতি অবহেলাকারী কখনো প্রজাতন্ত্রের সেবক হতে পারে না: হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি ​নিজস্ব প্রতিবেদক, আবদুল আউয়াল নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাট ০৩/০৬/২০২৬ইং পারিবারিক অবক্ষয়, নৈতিক স্খলন এবং জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি চরম অবহেলাকারীদের রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা নীতি-নির্ধারণী পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করে না, তার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ বা অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকার কোনো সুযোগ নেই। ​সম্প্রতি সমাজে পারিবারিক অবহেলা ও নৈতিক স্খলনের এক চরম চিত্র তুলে ধরে মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ​পারিবারিক অবহেলা বনাম সামাজিক দায়বদ্ধতা ​হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির কেন্দ্রীয় সহকারী পরিচালক আবদুল আউয়াল ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানান, মানবাধিকারের প্রথম পাঠটি শুরু হয় পরিবার থেকে। মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কেবল একটি সামাজিক বা ধর্মীয় নিয়ম নয়, এটি একটি মৌলিক মানবিক কর্তব্য। নিজের পরিবারে যে ব্যক্তি চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিতে পারে, তার পক্ষে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ​প্রজাতন্ত্রের পদে যোগ্যতার মূল ভিত্তি নৈতিকতা ​নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রজাতন্ত্রের বা রাষ্ট্রের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সেবা ও উচ্চ নৈতিকতা। নৈতিক স্খলন ও চরম অমানবিক আচরণে লিপ্ত কোনো ব্যক্তি যখন নীতি-নির্ধারণী বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন, তখন পুরো শাসনব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের অধিকার চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। ​তারা বলেন, ​"যে ব্যক্তি নিজের সবচেয়ে আপন মানুষের প্রতি সৎ ও মানবিক হতে পারেনি, সে কখনো পুরো একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বস্ত হতে পারে না।" ​রাষ্ট্রীয় পদে থাকা অনুচিত কেন? ​মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় পদে থাকার অযোগ্য হওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে: ​স্বার্থপরতা ও জবাবদিহিতার অভাব: মায়ের প্রতি অবহেলা করা ব্যক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ের স্বার্থপর মানসিকতার পরিচয় দেয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এলে এমন ব্যক্তি জনস্বার্থের চেয়ে নিজের আখের গোছাতেই বেশি ব্যস্ত থাকবে। ​আইনি ও নৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন: বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ীও (পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩) মা-বাবার যত্ন নেওয়া সন্তানের আইনি বাধ্যবাধকতা। আইন অমান্যকারী ও নৈতিকতাহীন ব্যক্তি কোনোভাবেই প্রজাতন্ত্রের সেবক হওয়ার যোগ্য নন। ​সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব: এমন ব্যক্তিরা যখন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকেন, তখন সমাজে একটি ভুল বার্তা যায়—"নৈতিকতা ছাড়াও সফল হওয়া যায়"। এটি তরুণ প্রজন্ম এবং সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ​সমাজ রক্ষায় করণীয় ​মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এই ধরনের নৈতিক বিপর্যয় রুখতে এখনই সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এর জন্য দুটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে: ​১. সামাজিক বয়কট: পরিবার ও সমাজের প্রতি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অমানবিক ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করে বয়কট করা উচিত। ২. কঠোর যাচাইকরণ (Screening): রাষ্ট্রীয় বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নিয়োগ, পদোন্নতি বা মনোনয়নের ক্ষেত্রে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা প্রভাব না দেখে; ব্যক্তির পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, নৈতিকতা ইসলাম মানবিকতা এবং মানবিক গুণাবলি কঠোরভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। ​নেতৃবৃন্দ পরিশেষে বলেন, মানবাধিকার আজ সত্যিই বিপন্ন, আর এই বিপন্নতার মূল কারণ আইন বা ব্যবস্থার অভাব নয়, বরং মানুষের ভেতরের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের এই চরম পতন। সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে এই ধরনের নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের বিরুদ্ধে এখনই গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে।